বাংলায় প্রথম উপন্যাসের সূচনা হয়- প্যারিচাদ মিত্রের ” আলালের ঘরের দুলাল”-র মধ্য দিয়ে। তার অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে বঙ্কিমচন্দ্রের সার্থক উপন্যাস “দূর্গেশ নন্দিনী”। একে একে বিভূতি-ভূষণ, রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র হয়ে বাংলা সাহিত্য একটি পৃথক ভাষা তৈরিতে সক্ষম হয়েছে।

সাহিত্যের ভাষা যারা ব্যবহার করেন তারা সাহিত্যিক। তবে এসকল সাহিত্যিকদের আলাদা করে অন্য পরিচয় আছে। যেমন ধরুন কেউ ব্যবসায়ী কিংবা ডাক্তার অথবা রাজনৈতিক। এ মানুষ গুলো তাদের চিন্তা জগতের কথা ও ইচ্ছে গুলো সাহিত্যের ভাষায় তুলে ধরতেন। কথা প্রসঙ্গে বলা চলে শরৎচন্দ্রের “পথের দাবি ” র কথা। এহলো সাহিত্যের ভাষায় এক অনবদ্য রাজনৈতিক মননের বহিঃপ্রকাশ।

এযুগের পথের দাবী বলে আমার কাছে সমরেশ মজুমদারের বিখ্যাত “কালবেলা ” বইটিকে। প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উভয় লেখকই নিজের রাজনৈতিক মতাদর্শ, পছন্দ কিংবা বলার মত কথা গুলো বলেছেন সাহিত্যের ভাষায়।

বাংলা ভাষাভাষী কলেজ ভার্সিটি এমনকি জুনিয়র লেভেলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমন অনেকেই রয়েছে যারা কালবেলা একাধিকবার পড়েছে। কেউ ভালো করে বুঝতে আর কেউ নিগূঢ় তত্ত্ব উদ্ধার করতে।

বইটি তথাকথিত কমিউনিস্ট পার্টি যারা মূলত চলমান রাজনৈতিক নেতা শুধু ক্ষমতা পেতে কমিউনিস্ট সেজেছে তাদের চোখ রাঙিয়ে গেছেন। আর সুস্থ সুন্দর সুষম অর্থনৈতিক সমৃদ্ধ অর্জন করতে কমিউনিস্ট পার্টি কতটা দরকার তা বুঝিয়েছে।

কিভাবে চলমান গণতন্ত্র স্কুল কলেজ ভার্সিটির শিক্ষার্থীদের অন্ধকারে ঢেলে দেয় কেবল নিজেদের অবস্থান জানান দিতে। সে ঘটনা প্রবাহ বারবার সামনে এনেছেন সমরেশ মজুমদার সুকৌশলে।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *